আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সেতু চার-পাঁচ মাস আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সিঁড়ি ব্যবহার করে সেতু পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে ব্রিজ-কালভার্ট প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলবেট কনস্ট্রাকশন। গত মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কে এখনো মাটিভরাট করা হয়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। টেংরাখালী, পার্শ্বখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী, ঠাকুরঘেরীসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সিঁড়ি দিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কের দুই পাশ গভীর খাদে পরিণত হয়েছে এবং কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় মাটির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী বলেন, “সেতু হয়েছে, কিন্তু ওঠানামার কোনো রাস্তা নেই। ভেকু দিয়ে মাটি কাটতে গিয়ে আমার বসতঘরের একাংশ খালে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি ঠিকাদার ও পিআইও অফিসকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি কমলেই মাটিভরাটের কাজ শুরু হবে।”

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলবেট কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত তপু আহমেদ জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে ১৫ দিনের সময় চাওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেই সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুজাহান কনক জানান, সেতু নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তলব করা হয়েছে। কাজের ধীরগতির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও সংযোগ সড়কের মাটি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।