অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন সংলগ্ন নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে। এতে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে নেমে আসা প্রবল ঢলের আঘাতে সাঁকোটি সম্পূর্ণ ভেঙে নদীতে ভেসে যায়। ফলে তিন উপজেলার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর ধরে হালদা নদীর এই বাঁশের সাঁকোই ছিল তিন উপজেলার মানুষের সবচেয়ে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শত শত মানুষ এই পথ দিয়ে হাটহাজারী সদর, চট্টগ্রাম শহর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। নাঙ্গলমোড়া, নোয়াজিষপুর ও দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যেত। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এখন তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়ার বোঝাও বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য লায়ন ড. সালাউদ্দীন আলী বলেন সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও লেখক জনাব টিপু সুলতান বলেন সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা এখন সময়ের দাবি।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত স্থায়ী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।