বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লিখল কানাডা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পয়েন্টের স্বাদ পেল বিশ্বকাপের সহ আয়োজক দেশটি। গোল মিসের পসরা সাজিয়ে বসেছিলো কানাডা এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। টরন্টো স্টেডিয়ামে (বিএমও ফিল্ড) বি গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইউরোপিয়ান দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলতে নেমে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়লো স্বাগতিক কানাডা। ফলের দিক থেকে সমান হলেও ম্যাচের গল্প ছিল টানটান, কখনো এলোমেলো, কখনো আবার একেবারে শারীরিক শক্তিনির্ভর লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

ম্যাচের শুরু থেকেই দু’দলই খেলেছে ৪-৪-২ ফরমেশনে, তবে সেটিকে কার্যকর পরিকল্পনায় রূপ দিতে পারেনি কেউই। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লড়াইয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে দু’দল, ফলে খেলায় গতি না থাকলেও শারীরিক সংঘর্ষ ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো ম্যাচজুড়ে ৩০টি ফাউলই যেন সেই অগোছালো লড়াইয়ের প্রমাণ হয়ে থেকেছে। বল দখলের লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে থেকেও শুরুতে সুযোগ কাজে লাগায় বসনিয়া। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়োভো লুকিচ। সেটিই প্রথমার্ধের একমাত্র গোল। তবে প্রথমার্ধে ৯টি কর্নার পেয়েও সেগুলো থেকে কোনো কার্যকর ফল বের করতে পারেনি কানাডা, যা তাদের আক্রমণভাগের দুর্বলতাকেই সামনে আনে।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ধরনে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়তে থাকে কানাডার ওপর। অন্যদিকে বসনিয়া রক্ষণাত্মকভাবে আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে। তাদের ডিফেন্সিভ লাইন বারবার ক্লিয়ার করে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়, পুরো ম্যাচে তারা ৭০ বারের বেশি বল ক্লিয়ার করে নিজেদের রক্ষণকে দৃঢ় রাখে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। ৭৯ মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসে কানাডা। প্রমিজ ডেভিডের তৈরি করা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর ঘুরে দাঁড়িয়ে নিখুঁত ভলিতে গোল করেন কাইল লারিন। সেই গোলেই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা এবং গ্যালারিতে শুরু হয় নতুন উন্মাদনা।

শেষ দিকে দু’দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একাধিক আক্রমণ, গোলমুখী সুযোগ এবং গোলরক্ষককে একা পেয়েও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতা সব মিলিয়ে ম্যাচের শেষ বাঁশি পর্যন্ত ছিল নাটকীয়তা। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে কর্নার হয়েছে মোট ১৩টি, ফাউল ৩০টি। কিন্তু সংখ্যার বাইরে গিয়ে এই ম্যাচ বেশি মনে থাকবে কানাডার ইতিহাস গড়ার জন্য। ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে হার দেখার পর এবার প্রথম পয়েন্ট অর্জন, যা তাদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল। শেষ পর্যন্ত ফল ১-১ হলেও ম্যাচটি ছিল অনেক বেশি গল্পময় একটি দল ইতিহাস গড়ার আনন্দে ভাসছে, অন্য দল এক মুহূর্তের ভুলে জয় হাতছাড়া করে হতাশায় ডুবেছে।