'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র চলমান বিক্ষোভের কারণে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই আন্দোলনের জেরে আজ বুধবার (২২ জুলাই, ২০২৬) নিরাপত্তাজনিত কারণে সেন্ট্রাল দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)।
দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ ও শিবাজি স্টেডিয়াম স্টেশন বন্ধ থাকবে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রয়েছে।
নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ফেসবুকে গড়ে ওঠা ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) ডাকা কর্মসূচিকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে সংসদমুখী বিক্ষোভের দিনও নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে গেলে তাকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে পুলিশ আটক করে। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আটকের সময় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভ দমনে সরকারের ক্ষমা প্রার্থনা, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এবং দ্রুত শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।