বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে স্মার্টফোন ভিজে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে এমন কিছু কাজ করেন, যা ফোনের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। অথচ সঠিক পদক্ষেপ নিলে ভেজা ফোনকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। ফোন ভিজে গেলে কী করবেন এবং কোন কাজগুলো একেবারেই এড়িয়ে চলবেন, তা নিয়েই এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ভিজে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
ফোন ভিজে গেলে প্রথম কাজ হলো সেটিকে দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া। যদি ফোনটি আগে থেকেই বন্ধ থাকে, তবে ভুলেও সেটি চালু করার চেষ্টা করবেন না। ফোন চালু থাকলে শর্ট সার্কিট হয়ে মাদারবোর্ড স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপর ফোনের কভার, সিম ট্রে এবং মেমোরি কার্ড খুলে ফেলুন। যদি আপনার ফোনের ব্যাটারি রিমুভেবল বা খোলার যোগ্য হয়, তবে সেটিও খুলে আলাদা করে রাখুন। এতে ফোনের ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত বেরিয়ে আসতে সুবিধা হয়। সবশেষে একটি মাইক্রোফাইবার কাপড় বা পরিষ্কার শুকনা তোয়ালে দিয়ে ফোনের বাইরের অংশ ভালো করে মুছে ফেলুন।
যে ভুলগুলো একেবারেই করবেন না
অনেকেই স্মার্টফোন শুকানোর জন্য চালের মধ্যে রেখে দেন। এটি একটি ভুল ধারণা, কারণ চাল খুব ধীর গতিতে আর্দ্রতা শোষণ করে। উল্টা চালের ছোট দানা বা গুঁড়া চার্জিং পোর্ট ও স্পিকারে ঢুকে ফোনের আরও ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া হেয়ার ড্রায়ার, মাইক্রোওয়েভ বা ওভেন ব্যবহার করে ফোন শুকানোর চেষ্টা করবেন না। অতিরিক্ত তাপ ফোনের স্ক্রিন, আঠা এবং ব্যাটারির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। একই সঙ্গে চার্জিং পোর্টে ফুঁ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে পানি আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে।
ফোন শুকানোর সঠিক উপায়
সিলিকা জেলের প্যাকেট ব্যবহার করা ফোন শুকানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। নতুন জুতা বা ইলেকট্রনিক পণ্যের সঙ্গে যে ছোট প্যাকেটগুলো থাকে, সেগুলো সংগ্রহ করে রাখুন। একটি বায়ুরোধী বাক্স বা জিপ-লক ব্যাগে ফোন এবং কয়েকটি সিলিকা জেল প্যাকেট একসঙ্গে রেখে দিন। এগুলো খুব দ্রুত ফোনের আর্দ্রতা টেনে নেয়। যদি হাতের কাছে সিলিকা জেল না থাকে, তবে একটি শুকনা তোয়ালের ওপর ফোনটি সমতলভাবে রাখুন। বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় বা ফ্যানের নিচে রেখে প্রাকৃতিক উপায়ে শুকাতে দিন। তবে ফ্যানটি যেন অবশ্যই ঠান্ডা বাতাসের হয়।
ধৈর্য ধরা জরুরি
ফোন শুকানোর সময় ধৈর্য ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনটি পুনরায় চালু করার আগে অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। তাড়াহুড়া করে ফোন চালু করার চেষ্টা করলে ফোনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে ফোন চার্জে দেবেন না বা পাওয়ার অন করবেন না।