জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম পুনর্বহালের দাবি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীম কায়সার হলটির আগের নাম পুনর্বহালের দাবি জানালে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবীব। এ সময় বিষয়টি নিয়ে সিনেটে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যেও বাক্যবিনিময় হয়।


শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক শামীম কায়সার এ দাবি উত্থাপন করেন।


বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হলের আগের নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। আমি মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বাস্তবতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হলটির আগের নাম পুনর্বহাল করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’ তবে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে না দেখারও অনুরোধ জানান সিনেট সদস্যদের।


এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবীব এ দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা-উত্তর সময়কে আলাদাভাবে পাঠ করতে হবে। স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে তিনি স্বৈরাচারী শাসনের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। তাই তাকে কেবল একমাত্রিকভাবে উপস্থাপন বা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে স্বাভাবিকীকরণের কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনার নাম পুনর্বহাল করে বঙ্গবন্ধুর নামে রাখারও কোনো সুযোগ নেই।”


এ সময় বঙ্গবন্ধুকে স্বৈরাচার বলার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিনেটর আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “সিনেট কোনো বিতর্কের মঞ্চ নয়। তবে বিতর্ক করতে চাইলে আমি প্রস্তুত। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ভিত্তি। কেউ মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতাদের বিতর্কিত করবে, এটা মেনে নেওয়া হবে না।”


এ সময় সিনেটে উপস্থিত আরও কয়েকজন সদস্য বিষয়টি নিয়ে নিজ নিজ মতামত দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হল’ রাখা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর এবার প্রথমবারের মতো সিনেটে হলটির আগের নাম পুনর্বহালের দাবি উত্থাপিত হলো।