কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গাজীপুরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গাজীপুরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সালমা খাতুন জানান, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে গাজীপুরে প্রায় ২০০ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, 'সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গাজীপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএনসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি যারা বেআইনি মিছিল করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল এবং পুলিশকে হুমকি দিয়েছিল, তাদের অনেককেই ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানিমূলক প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের জানমাল রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।'
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, মহানগর এলাকায় প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন প্লাটুন বিজিবি ও তিন প্লাটুন এপিবিএন সদস্যও মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, 'জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যুবলীগের ভাইরাল ওই মিছিলের অংশগ্রহণকারী প্রায় সবাইকে (৩৪ জনকে) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।'
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, 'জেলাজুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের প্রায় ১,৬০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতা প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।'
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে পুলিশের প্রতি হুমকিসূচক বক্তব্য শোনা যায়। ঘটনার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে-এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে গাজীপুরের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।