স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুর মহানগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল ও বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযানে নেমে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সরকারবিরোধী মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতা রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহমুখী অংশে হোটেল নিরিবিলি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-২ সংলগ্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মিছিলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এ সময় সরকারবিরোধী স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়া হয় এবং সেসব ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

ঘটনার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩ ও অধিকতর সংশোধনী অধ্যাদেশ-২০২৫) এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় সদর থানার মামলা নং-০৭, তারিখ ৩ জুলাই ২০২৬ রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পর সদর থানার একাধিক আভিযানিক টিম গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সদর থানা পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গাজীপুর জেলার অন্যান্য থানা পুলিশের অভিযানে আরও চারজনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ডিজিটাল আলামত, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিএমপি পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। যারা প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান। জননিরাপত্তা ও মহানগরের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।'

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।